- 14 April, 2026
- 0 Comment(s)
- 246 view(s)
- লিখেছেন : শাম্মা বিশ্বাস
একটি শিশু জন্মানোর পর সম্পূর্ণ ভাষা শেখার আগে,এমনকি অক্ষর জ্ঞান হওয়ার আগেই আধো আধো বুলিতে সে ছড়া শিখে যায়। মা অথবা বাড়ির বড়দের কাছ থেকে শুনতে শুনতে সেও ছড়া বলতে চেষ্টা করে। ছড়া প্রধানত শিশুর সাহিত্য। অনেক প্রচলিত ছড়া বিশেষ করে যোগীন্দ্রনাথ সরকারের ছড়া আমাদের দেশে বিশেষ জনপ্রিয় হলেও লোকসাহিত্য বা ছড়া সাহিত্যের প্রতি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আমাদের আরো বেশি আগ্রহী করে তোলেন। অঞ্চলভেদে এইসব ছড়া বিভিন্ন হলেও তার বিষয়বস্তু মূলত একইরকমের হয়। ঘুমপাড়ানি ছড়া, ছেলেভুলানো ছড়া, খুকুমনির ছড়া প্রভৃতি ছড়া ছেলে মেয়ে উভয়ের জন্য হলেও একটু ভালো করে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে বেশিরভাগ ছড়াতেই ছেলেদের প্রাধান্য বেশি অথবা ছেলেকে নিয়ে মায়েদের গর্বের শেষ নেই,কিংবা মেয়ে সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য মায়ের দুঃখ কষ্ট।
যেমন -
এই মেয়েটা হত বেটা
দিতাম সোনার কোমর পাটা
থাকতো লোকে চেয়ে।
মাছ চেনে গভীর জল পাখি চেনে ডাল।
মায়ে জানে পুত্রের মায়া জিয়ে কতকাল।
শুধুমাত্র ছেলে মেয়ের পার্থক্য নয়, তাদের রূপ গুণ নিয়েও ছড়াগুলোতে প্রভেদ দেখা যায়। যেমন ছেলের রূপের তুলনা করতে গিয়ে ছড়াকার বলেছেন -
রঙ নয় যেন কাঁচা সোনা
মুখটি যেন চাঁদের কণা
নাসিকাটি তিল ফুল
দাঁতগুলি মুকুতার দুল
আঙুলগুলি চাঁপার কলি
নয়নে খেলে বিজলি
কেশে কালো মেঘ খেলে
সেই ধনটি আমার ছেলে।।
ছেলের রূপের জন্য এত প্রশংসা থাকলেও মেয়েদের নিয়ে ছড়ায় মেয়েকে "কালো", "খাঁদা নাকের চুড়ো", ইত্যাদি বিশেষণে সাজানো হয়েছে।
শুধুমাত্র রূপ বা গুন নয়,এমনকি শিশুকে শান্ত করার জন্য বা ঘুম পাড়ানোর জন্য দোলনায় দুলিয়ে যে ছড়া কাটা হয় সেখানেও ছেলে মেয়ের পার্থক্য দেখা যায়।
দোল দোল দুলুনি।
রাঙা মাথায় চিরুনি।।
বর আসবে এখনি।
নিয়ে যাবে তখনি।।
কেঁদে কেন মর।
আপনি বুঝে দেখ,কার ঘর কর।।
আয় মণি সায়মণি রতনমণির কোলে
হাসিমুখে মনের সুখে খোকনমণি দোলে।
খোকন কেমন সেজেছে
পায়ের নূপুর বেজেছে!
দোলে রে আমার ধনসোনা
মুখখানি তোর চাঁদপানা।।
ছোট থেকেই একটি শিশু কন্যা যেন পরের ঘরে যাওয়ার জন্য,বরের জন্য অপেক্ষা করে থাকে। তাই তাকে রাঙা মাথায় চিরুনি দিয়ে অপেক্ষা করতে হয় কখন সে পরের ঘরে যাবে। কিন্তু পরের ঘর ভালো না হলেও তার কাঁদা যাবে না। নিজেকেই বুঝে নিতে হবে সে কিরকম ঘর করছে। ছোট থেকে তাই দোল খেতে খেতে কন্যাকে বরের জন্য অপেক্ষা করতে করতে ঘুমিয়ে পড়তে হবে। অন্যদিকে রাঙ্গা মাথায় চিরুনি না দিলেও কিন্তু খোকনমনি পায়ে নূপুর পরে সেজেগুজে দোল খাচ্ছে,কিন্তু তার মা বা অন্যরা তার বিয়ে নিয়ে চিন্তিত নয়। বরং তারা ছেলের চাঁদপানা মুখ দেখে গর্বিত।
শুধুমাত্র রূপ বা গুন নিয়ে নয় ছড়াগুলোতে শিশুকে শাসনের ক্ষেত্রেও ছেলে মেয়ে অনুযায়ী ভেদাভেদ লক্ষ্য করা যায়।
কে বলেছে মন্দ কে দিয়েছে গাল
কীসের তরে কাঁদে আমার ননির গোপাল।
খোকন কেন কাঁদে?
খোকার মা রাঁধে।
ও খোকার মা,ঘরে এসো গো।
তোমার তরে কেঁদে কেঁদে খোকা সারা হল গো।
আঁটুল বাঁটুল শ্যামলা শাঁটুল
শামলা গেল হাটে।
শামলাদের মেয়েগুলি পথে বসে কাঁদে।
আর কেঁদো না আর কেঁদো না -
চালভাজা দেব।
আবার যদি কাঁদো তবে তুলে আছাড় দেব।।
কি অদ্ভুত ব্যাপার! খোকার মা নিজের কাজে ব্যস্ত,রান্নায় ব্যস্ত তবুও খোকাকে শান্ত করার জন্য মাকে ডাকা হচ্ছে। অন্যদিকে শামলা হাটে কাজে গেলে তার মেয়েদের জন্য শামলাকে না ডেকে তার মেয়েদের আছাড় দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। ছেলে কাঁদলে তাকে আদর করে ভুলিয়ে তার কান্না থামানোর চেষ্টা করা হয়। শুধু তাই নয় যার জন্য খোকা কাঁদছে তাকে বকা,এমনকি শাপশাপন্ত করা হয়। শুধু এই ছড়া নয়,এইরকম আরো অনেক ছড়ায় তার নমুনা পাওয়া গেছে। কিন্তু মেয়েরা কাঁদলে তাদের তুলে আছাড় দিয়ে কান্না বন্ধ করার চেষ্টা করা হয়। শুধু মেয়ে বলেই কি তাদের আছাড় দেওয়া এত সহজ? ছোট থেকেই একটা মেয়েকে যেন শেখানো হয় নিজের দুঃখ কষ্ট কান্না প্রকাশ করতে নেই,প্রকাশ পেলেই দুঃখ কষ্ট কান্নার জন্য আছাড় তার প্রাপ্য।
এছাড়াও মেয়েদের বিধি নিষেধ, বারণের শেষ নেই। ছোট থেকেই ছড়ার মধ্যে দিয়ে তাদের বোঝানো হয় এটা করা যাবে না সেটা করা যাবে না। সেখানে একই কাজের জন্য কিন্তু ছেলেদের কোনো বিধি নিষেধ নেই।
খোকা যাবে মাছ ধরিতে ক্ষীর নদীর বিল
মাছ নয় গুগলির পিছে উড়ছে দুটো চিল।
খোকা যাবে মাছ ধরিতে গায়ে লাগিবে কাদা
কলুবাড়ি গিয়ে তেল নেও গে দাম দেবে তোমার দাদা।
আকাশ জুড়ে মেঘ করেছে
সুয্যি গেছে পাটে।
খুকু গেছে জল আনতে
পদ্মদিঘির ঘাটে।
পদ্মদিঘির কালো জলে
হরেক রকম ফুল
হেঁটোর নিচে দুলছে খুকুর
গোছাভরা চুল।
বৃষ্টি এলে ভিজবে সোনা
জল শুখানো ভার।
জল আনতে খুকুমণি
যায় না যেন আর।।
খুকুর বড় বড় চুল আছে। বৃষ্টিতে ভিজলে তার চুল শুকাবে না তাই তাকে আর কখনোই জল আনতে যেতে না করা হচ্ছে। কিন্তু অন্যদিকে খোকা মাছ ধরতে গিয়ে গায়ে কাদা লাগিয়ে নিলেও কোন ব্যাপার নয়। তাকে তো নিষেধ করা হচ্ছেই না উল্টে গায়ের কাদা তোলার জন্য তেলের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কিন্তু জল আনতে গিয়ে খুকুর চুল ভিজে যাবে সেটার কোন প্রতিকার নেই, তাই তার জল আনতে যাওয়ায় পুরো বন্ধ করে দেওয়া যায়। কারন খুকু মেয়ে। জলে ভিজে তার অসুখ করতে পারে,তাই তাকে দুর্বল ভাবা হয়েছে। সেইজন্য তার ওপর এত বিধি নিষেধ।
বড় হয়ে মেয়েকে যে পরের ঘরে যেতেই হবে সেটা বুঝতে মেয়েদের বড় হওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হয়না। ছোট থেকেই তাদের মনে গেঁথে দেওয়া হয় যে,বড় হলে তোমাকে বিয়ে করতেই হবে এবং পরের ঘরে যেতেই হবে। আর এই কাজটি শুরু হয়ে যায় ছোটতে পড়া বা শোনা ছড়া অথবা গল্পের মধ্যে দিয়ে। ছড়াগুলো যেন প্রতি পদে পদে মনে করিয়ে দেয় মেয়েদের জন্ম বড় হয়ে ওঠা শুধুমাত্র বরের জন্য,পরের ঘরের জন্য। সেই জায়গা থেকে ছড়াগুলোতে ছেলেরা যেন ছোট থেকেই সাহসী,স্বাধীন। তারাও শ্বশুরবাড়ি যাবে কিন্তু সেটা অনেক আনন্দের ব্যাপার। শ্বশুরবাড়ি গেলে তারা সেখান থেকে কি কি আনতে পারবে,সেখানে তাদের কিভাবে আদর আপ্যায়ন জুটবে সেইসব কথা তারা ছোট থেকেই ছড়াগুলো পড়ে,শুনে জানতে পারে।
খোকা যাবে বিয়ে কত্তে হস্তীরাজার দেশে
তারা রুপোর খাটে পা রেখে সোনার খাটে বসে।
ঘন আওটা দুধের উপর পুরু সর ভাসে।
খোকামণিকে সোহাগ করে যোতুক দেবে কী?
শাল দিবে দোশালা দিবে রূপবতী ঝি।।
তালতলা দে মেরোত যায়,
পুঁটি মাছে গান গায়।
ও দুলালের মা,
স্যকনা মেয়ে ঘরে খুয়ে
দুককু দিও না।
মেয়ে বড় হয়ে গেছে তাই বিয়ের সময় এসে গেছে। তবুও মেয়ের বিয়ে দেওয়া হচ্ছে না বলে আত্মীয়স্বজন পাড়াপ্রতিবেশীর চিন্তার শেষ নেই, মেয়ে ঘরে থাকা মানেই দুঃখের ব্যাপার। অন্যদিকে খোকার বিয়ে হলে সেটা দুঃখের নয়,বড়ই আনন্দের কথা। কারন খোকা বিয়ে করলে বউ এর সঙ্গে সঙ্গে অনেক যৌতুক উপহার পাওয়া যাবে।
মেয়ে বড় হওয়ার পর সে যদি বিয়ে করতে না চায় তবুও তাকে জোর করে বিয়ে দিতে হবে, নাহলে তার নিজের বাড়িতেই নিজের লোকজনের মাঝেই ঠাঁই হবে না। আত্মীয়স্বজন পাড়া প্রতিবেশী সবাই যেন মেয়েকে বিয়ে দিতে পারলেই বাঁচে।
অনুপমা দুধের সর
চায় না যেতে পরের ঘর।
বাপ বলেছে - আয় আয়,
মা বলেছে - থাক্।
বউ বলেছে - দূর করে দাও,
শ্বশুরবাড়ি যাক।।
মেয়েকে বিয়ে দিতে বাবা মার যদিও বা একটুও কষ্ট হয় কিন্তু অন্যরা যেন মেয়েকে শ্বশুরবাড়ি পাঠানোর জন্য বড়ই ব্যস্ত থাকে। তাই তাকে যেনতেন প্রকারে নিজের বাড়ি থেকে দূর দূর করে তাড়িয়ে দেওয়া যেতেই পারে। সেইজন্য যতই যৌতুকের দরকার পড়ুক সেটা দিয়েও মেয়েকে পরের বাড়ি পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হয়।
আজ দুর্গার অধিবাস,কাল দুর্গার বিয়ে।
দুর্গা যাবেন শ্বশুরবাড়ি সংসার কাঁদিয়ে।
......................
......................
বাপ কাঁদেন বাপ কাঁদেন দরবারে বসিয়ে
সেই যে বাপ টাকা দিয়েছেন
সিন্দুক সাজায়ে।
....................।।
পুঁটু যাবে শ্বশুরবাড়ি,সঙ্গে যাবে কে,
বাড়িতে আছে কুনো বেড়াল কোমর বেঁধেছে।
আম কাঁঠালের বাগান দেব
ছায়ায় ছায়ায় যেতে,
চার মিনসে কাহার দেব
পথে জল খেতে,
চার মাগী দাসী দেব
পায়ে তেল দিতে,
ঝাড় লণ্ঠন জ্বেলে দেব
আলোয় আলোয় যেতে,
উড়কি ধানের মুড়কি দেব
শাশুড়ী ভুলাতে।
শাশুড়ী ননদ বলবে দেখে
বউ হয়েছে কালো,
শ্বশুর ভাসুর বলবে দেখে
ঘর করেছে আলো।।
মেয়ে শুধু বড় হলেই হবে না,তাকে বিয়ে দেওয়ার জন্য সিন্দুক সাজিয়ে টাকা,সোনা প্রস্তুত রাখতে হবে। মেয়ের যাতে শ্বশুরবাড়িতে কষ্ট না হয় তাই তার জন্য দাসী পাঠানো হবে, শাশুড়ীকে ভোলাতে মুড়কি দেওয়া হবে। কিন্তু এত করেও মেয়ের কপালে সুখ থাকে না। সেখানে তাকে রূপের খোঁটা শুনতে হয়। সহ্য করতে হয় আরো অত্যাচার।
অন্নপূর্ণা দুধের সর,
কাল যাব লো পরের ঘর।
পরের বেটা মারলে চড়
কানতে কানতে খুড়োর ঘর,
খুড়ো দিলে বুড়ো বর।
হেই খুড়ো তোর পায়ে ধরি,
রেখে আয় গে মায়ের বাড়ি।
মায়ে দিলে সরু শাঁখা,
বাপে দিলে শাড়ি।
ভাই দিল হুড়কো ঠেঙা
চল শ্বশুরবাড়ি।
পরের বাড়ি গিয়ে মেয়েকে বরের কাছে মার খেতে হয়। মেয়ে নিজের দুঃখ কষ্ট কমানোর জন্য বাপের বাড়ি এলে সেখানেও তাকে ভাইয়ের হাতে ঠেঙ্গানি খেয়ে সেই শ্বশুরবাড়িতেই ফিরতে হয়। আসল কথা হল যতই তুমি দুঃখ কষ্ট পাও বিয়ে হয়ে গেলে তোমাকে শ্বশুরবাড়িতে থাকতে হবে।
মশার জ্বালায় বাঁচি না লো
............
.............
............
............
দাসীর ভয়ে গেলাম ঘরে
ননদে মন্দ বলে।
ননদের ভয়ে রাঁধতে গেলাম
শাশুড়ি উঠে জ্বলে।
রাগ কোরো না শাশুড়ি গো
আমি তোমার মেয়ে।
তুমি যদি খেদাও তবে
দাঁড়াই কোথায় যেয়ে।।
ছড়াগুলোর মধ্যে দিয়ে ছোট থেকেই মেয়েদের বোঝানো হয় যে, তোমাদের মানিয়ে নিতে হবে। তাই মেয়েরাও মানিয়ে নেওয়ার জন্য শ্বশুরবাড়ি গিয়ে সেখানে তাদের মন জুগিয়ে চলার চেষ্টা করে। বরের মার খেয়ে,ননদের গালমন্দ শুনে,শাশুড়ির রাগ সহ্য করেও মেয়েদের কাকুতি মিনতি করতে হয় যাতে তাকে শ্বশুরবাড়ি থেকে তাড়িয়ে না দেওয়া হয়। তাড়িয়ে দিলে তার আর যাওয়ার জায়গা থাকবে না। কারন সে জানে বিয়ের পর তার বাপের বাড়ি নিজের বাড়ি আর থাকে না। তাই শ্বশুরবাড়িকেই আঁকড়ে পড়ে থাকতে হবে।
ছড়াগুলোতে যে শুধু শিশুকন্যার বঞ্চনার কথা আছে সেটা নয়। সেখানেও কিছু কিছু ছড়ায় মেয়েদের আদর, ভালোবাসা,সোহাগের কথা বলা আছে। কিন্তু তুলনায় সেগুলো অনেক কম। বেশিরভাগ ছড়ায় ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা বেশি অবহেলিত। বাংলা সাহিত্যে এবং আমাদের জীবনে ছড়ার অবদান গুরুত্বপূর্ণ। কারন একটা শিশুর প্রথম পাঠ অথবা শিক্ষা হিসেবে ধরা যেতেই পারে ছড়া প্রথম ধাপ। এছাড়াও পুরোনো দিনের নিরক্ষর নারীরা শুনে শুনে ছড়াগুলো মনে রাখতেন এবং শিশুদের শোনাতেন। ছড়া ছিল বলেই কাজের মধ্যেও শিশুদের ভোলানো,ঘুমপাড়ানো,খাওয়ানো একটু হলেও সহজ ব্যাপার ছিল। বর্তমানও তার ব্যতিক্রম নয়। এখনো শিশুদের ভোলাতে বা খাওয়াতে মা ঠাকুমারা ছড়ার সাহায্য নেন। অথবা টিভি বা মোবাইলে ছড়া শুনতে শুনতে শিশুরা ঘুমিয়ে পড়ে। কিন্তু সাহিত্যের অন্যান্য দিকগুলির মতই ছড়াতেও মেয়েদের জন্য শুধু অবহেলা,রূপ রঙ নিয়ে বঞ্চনা,পরের ঘরে যাওয়া,বারন,বিধি নিষেধ,মানিয়ে নেওয়া,সহ্য করা,দুঃখ কষ্ট প্রকাশ না করা ইত্যাদি বেশি করে প্রকাশ পেয়েছে। তাই শিশুমনও ছোট থেকেই বুঝতে শেখে মেয়ে মানেই দুর্বল,মেয়ে মানেই বিয়ে,মেয়ে মানেই শ্বশুরবাড়ি,মেয়ে মানেই বিধি নিষেধের বেড়াজালে আবদ্ধ হয়ে থাকা। এইভাবেই আমাদের সমাজে ছড়ার মাধ্যমে একদম ছোট থেকেই ছেলে মেয়ে উভয়ের মননে সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটো ছবি এঁকে দেওয়া হয়। তাই হয়তো ছেলেরা লাঠিকে কাল্পনিক তলোয়ার করে যুদ্ধ যুদ্ধ খেলায় অংশগ্রহণ করে, অন্যদিকে মেয়েরা গামছা বা ওড়না দিয়ে শাড়ি পরে নিজেকে বউ সাজিয়ে পুতুলের বিয়ে দেওয়ায় মত্ত হয়ে থাকে।
লেখক: বাচিক শিল্পী, প্রাবন্ধিক
ছবি: সংগৃহীত
0 Comments
Post Comment