সে কাঁদে না কেন?

  • 08 April, 2026
  • 0 Comment(s)
  • 122 view(s)
  • লিখেছেন : অপর্ণা বন্দ্যোপাধ্যায়
সদ্য সঙ্গীহারা অভিনেত্রী প্রকাশ্যে না কেঁদে অনেকের বিরাগভাজন হয়েছেন। তিনি নারীর আবেগ সম্বন্ধে পিতৃতান্ত্রিক প্রত্যাশাকে পূরণ করেননি বলে সমাজের এক অংশ তাঁর ওপর হাড়ে হাড়ে চটেছে। পিতৃতন্ত্র কীভাবে মেয়েদের আবেগ-অনুভূতিকে নিয়ন্ত্রণ করে, স্বতঃস্ফূর্ততা থেকে বিযুক্ত করে অনুশাসনের ঘেরাটোপে বেঁধে ফেলতে চায় তার প্রমাণ সোশ্যাল মিডিয়ায় সাম্প্রতিককালের এই নেতিবাচক চর্চা।

প্রত্যেক আর্থসামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে আবেগ-অনুভূতি প্রকাশের কিছু অলিখিত নিয়ম থাকে। এই নিয়মগুলোকে আবেগ-অনুভূতির ইতিহাসচর্চার অন্যতম পথিকৃৎদ্বয় ক্যারল এবং পিটার স্টার্নস emotionology হিসেবে অভিহিত করেছেন। এই আবেগ-অনুভূতি সংক্রান্ত অনুশাসনগুলি নিয়ে নির্মিত হয় emotional regime যা একেক প্রেক্ষাপটে একেক রকম। লিঙ্গভেদেও আবেগ-অনুভূতি প্রকাশের ধরনটা আলাদা হবে এটাই প্রত্যাশিত। পিতৃতন্ত্র নারীত্ব ও পৌরুষের যে স্টিরিওটাইপ বা ছাঁচ গড়ে তুলেছে তা নারীকে আবেগের আধার হিসেবে উপস্থাপিত করেছে আর পুরুষকে যুক্তিবোধের। অর্থাৎ পিতৃতান্ত্রিক মূল্যবোধের কাঠামোয় নারী emotional এবং পুরুষ যুক্তির পরাকাষ্ঠা। তাই যে কোনও পরিস্থিতিতে নারী ও পুরুষের আবেগী প্রতিক্রিয়া ভিন্নরকম। অন্তত তাই মনে করে পিতৃতন্ত্র। অথবা এই ভিন্নতাকেই কাম্য মনে করে পিতৃতন্ত্র। এই ভিন্নতাকেই norm হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। স্বামীর মৃত্যু হলে একজন নারীর তাৎক্ষণিক আবেগী প্রতিক্রিয়া কী হওয়া উচিৎ? কোনও পুরুষের মৃত্যু ঘটলে তার স্ত্রী অশ্রু বিসর্জন করবে এই প্রত্যাশা বোধহয় সার্বজনীন। প্রেক্ষাপট নির্বিশষে কান্নায় ভেঙে পড়াটাই একজন সদ্য সঙ্গীহারা নারীর প্রত্যাশিত প্রতিক্রিয়া। কিন্তু ডুকরে ডুকরে উচ্চস্বরে কান্না? নাকি নীরবে অশ্রুপাত? আসলে শিক্ষা, আভিজাত্য, জাতি এবং শ্রেণীগত অবস্থান অনুসারে নারীর শোকজনিত আবেগের অভিব্যক্তিরও তারতম্য প্রত্যাশিত। শিক্ষিত, পরিশীলিত, অভিজাত, উচ্চশ্রেণীর নারীদের আবেগী অভিব্যক্তি উচ্চকিত হবে না, অন্তত জনপরিসরে শোকজনিত যন্ত্রণার অভিব্যক্তি সংযত হবে এটাই কাঙ্ক্ষিত। অন্যদিকে শ্রেণী, শিক্ষা, জাতি প্রভৃতি নির্বিশেষে পুরুষেরা স্ত্রী মারা গেলে প্রকাশ্যে কাঁদবে এটা দস্তুর নয়।

ভারতীয় হিন্দু মধ্যবিত্ত সমাজের কথায় আসি। এই সামাজিক স্তরের মহিলাদের স্বামীর মৃত্যুতে কেঁদে ভেঙে পড়াটাই এখনো কাঙ্ক্ষিত নারীসুলভ অভিব্যক্তি। এর ব্যত্যয় হলে নিন্দা হয়। সম্ভবত আগেও এটাই দস্তুর ছিল। এবং মেয়েরা আবেগপ্রবণ, তারা কথায় কথায় কাঁদে, মানে কাঁদা উচিৎ, এই ধারণাটাই বোধহয় কায়েম ছিল। মনে পড়ে উনিশ শতকের রাসসুন্দরী দাসীর কথা। তিনি বিয়ের পর শ্বশুরবাড়ি এসে তিনমাস টানা কেঁদেছিলেন। লিখেছিলেন, ‘প্রথমবার যাওয়াতেই আমার তিন মাস থাকা হয়, ঐ তিন মাস আমি মাতৃহীন সন্তানের ন্যায় দিবারাত্রি কান্নাতেই কালযাপন করিয়াছিলাম (রাসসুন্দরী দাসী, আমার জীবন, ইন্ডিয়ান আসোসিয়েটেড পাবলিশিং কোম্পানি, কলকাতা, প্রথম প্রকাশ ১৮৭৬, পৃষ্ঠা ২৫)। ছোটবেলা থেকেই কান্না, ভয়, লজ্জা তাঁর নিত্য সঙ্গী। আপাতদৃষ্টিতে নারীসুলভ সমস্ত স্বভাববৈশিষ্ট্যই তাঁর মধ্যে বর্তমান। কিন্তু তাঁর স্বামী? একবার রাসসুন্দরী বেশ অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। সবাই ভেবেছিল তিনি আর থাকবেন না। তাঁর অসুস্থ শরীরকে বাড়ির উঠোনে নামিয়ে আনা হয়েছিল। রাসসুন্দরীর দেহে সাড় নেই, জিভে সাড় নেই কিন্তু তিনি সবার সব কথা শুনতে পাচ্ছেন। তিনি শুনলেন, বাড়ির কর্তাটি বলছেন, ‘মো’লো নাকি? তবে যাক’। রাসসুন্দরী পরে আরো লক্ষ করলেন, কর্তা ‘হরিমোহন’ বলে ডাকছেন, এবং তাঁর চোখ দিয়ে দরদর করে জল পড়ছে। কিন্তু তাঁকে এমন ভাব দেখাতে হচ্ছে যেন স্ত্রী মরলে তাঁর বিশেষ কিছু এসে যায় না। ‘ভাগ্যবানের বউ মরে’ এই কথাটা তখন ভীষণ রকম সত্যি ছিল। (এখনও হয়তো সত্যি)। এক স্ত্রী থাকতেই একজন পুরুষ একাধিকবার বিয়ে করতে পারত, আর স্ত্রী মারা গেলে তো কথাই নেই। অশৌচপর্ব পেরনোর সঙ্গে সঙ্গে ঘরে নতুন কচি বউ চলে আসবে, তাই তো পত্নীহারা পুরুষ ‘ভাগ্যবান’! কিন্তু স্বামীহারা নারীর ক্ষেত্রে নিয়ম আলাদা। স্বামী মারা গেলে স্ত্রীরা শোকে পাগল হয়ে কাঁদবে তো বটেই, আত্মাহূতি পর্যন্ত দেবে, এটাকেই মনে করা হত স্বাভাবিক। আর স্বামীরা বিচক্ষণতার সঙ্গে পরিস্থিতি সামলে পরবর্তী বিবাহের জন্য প্রস্তুত হবে, এটাই ছিল স্বাভাবিক।

মনে পড়ছে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘অভাগীর স্বর্গ’ গল্পের কথা। ‘ঠাকুরদাস মুখোপাধ্যায়ের বর্ষীয়সী স্ত্রী সাতদিনের জ্বরে মারা গেলেন।... মেয়েরা কাঁদিতে কাঁদিতে মায়ের দুই পায়ে গাঢ় করিয়া আলতা এবং মাথায় ঘন করিয়া সিঁদুর লেপিয়া দিল।... বৃদ্ধ মুখোপাধ্যায় শান্তমুখে তাঁহার চিরদিনের সঙ্গিনীকে শেষবিদায় দিয়া অলক্ষ্যে দুফোঁটা চোখের জল মুছিয়া শোকার্ত কন্যা ও বধূগণকে সান্ত্বনা দিতে লাগিলেন...’ (শরৎসাহিত্যসমগ্র, দ্বিতীয় খন্ড, আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা, ১৯৮৬, পৃ ১৭৩৩)। অর্থাৎ পত্নীবিয়োগে পুরুষেরা যদি বা অশ্রুপাত করে সেটা  হবে নীরবে, অলক্ষ্যে। তারপর মুখোপাধ্যায়মশাই ঘটা করে স্ত্রীর শ্রাদ্ধের আয়োজন করলেন। এখানেই তাঁর প্রকৃত ‘পৌরুষ’।

মহাশ্বেতা দেবীর ‘রুদালী’ গল্পের কথা মনে পড়ে (মহাশ্বেতা দেবী, রুদালী, দে’জ পাবলিশিং, কলকাতা, প্রথম প্রকাশ ১৯৭৯) । টাহাড় গ্রামের মেয়ে শনিচরী। নিম্নজাতীয়, দরিদ্র, প্রান্তিক। শাশুড়ি মারা গেলে শনিচরী তার দাহ করার ব্যবস্থা করতে এত ব্যস্ত ছিল যে তার কাঁদা হয়ে ওঠেনি। তাছাড়া বৃদ্ধা তাকে এত জ্বালিয়ে গেছে যে কাঁদতে গেলেও শনিচরীর আঁচল ভিজত না। দেওর ও জা মারা গেলেও কাঁদার ফুরসৎ মেলেনি। এমনকি স্বামী রাতারাতি কলেরায় মারা যাওয়ার পরও শনিচরীর কাঁদা হয়ে ওঠেনি। ‘কাঁদতে সময় দেয়নি গোরমেনের লোক’। ছেলে বুধুয়াকে মানূষ করার জন্য শনিচরী কঠোর জীবন সংগ্রামে অবতীর্ণ হয়। শনিচরী যে কাঁদেনি সে নিয়ে গ্রামে কথা হয় কিন্তু সে সেইসব কথায় কান দেয় না। এরপর তার ছেলে বুধুয়াও যখন মারা গেল তখনও কাঁদা হল না। অসহায় মা-পরিত্যক্ত নাতিকে কোলে তুলে নিয়ে বুধুয়ার দাহের ব্যবস্থা করতে, বউ পালাবার কেচ্ছা চাপা দিতে ছুটোছুটি করতে বুধুয়ার জন্যও শনিচরীর কাঁদা হল না। কাঁদতে পারত না শনিচরী। তারপর তার বাল্যকালের সহেলি বিখনির সঙ্গে হাত মিলিয়ে নতুন করে জীবন গড়তে শুরু করল। খিদে মেটানোর জন্য শেষে রাজপুত মহাজন-মালিকদের মৃত্যুতে টাকার বিনিময়ে কাঁদতে লাগল। হয়ে উঠল পেশাদার রুদালী।

রাজনৈতিক পরিবারের বউ-মেয়েদের কাছেও কি একইরকম প্রত্যাশা ছিল? মনে পড়ে, আমরা তখনো স্কুলের গন্ডি পেরোইনি। রাজীব গান্ধীর হত্যার খবর এল। পরে তাঁর শেষকৃত্যের দিন শ্মশানে দেখা গেল সোনিয়া গান্ধী এবং তাঁদের সন্তানদের। গম্ভীর, শোকার্ত কিন্তু চোখে জল নেই। তখন কেউ সোনিয়া গান্ধীকে নিন্দা করেছেন বলে শুনিনি। সাধারণ নারীর মতো তাঁর কেঁদে ভাসানোর কথা নয়। শক্ত থাকতে হবে তাঁকে।

আমার এক পরিচিত মহিলা তাঁর স্বামীর মৃত্যুর পর বাড়িতে কেউ সমবেদনা জানাতে এলেই কেঁদে উঠতেন ডুকরে ডুকরে। শেষের দিকে কান্নাটা কেমন যেন মেকি শোনাত। স্বামীর সম্বন্ধে তাঁর ছিল প্রচন্ড ক্ষোভ। কাছের লোকদের কাছে সেই ক্ষোভ অশৌচকালেই উগরে দিতেন।

আজকাল খবরের কাগজেরর পাতা ওল্টালেই বা নিউজ চ্যানেল খুললেই দুর্ঘটনা বা রাজনৈতিক হত্যার খবর। মৃত ব্যক্তিটি পুরুষ বা নারী হোক না কেন অনিবার্যভাবে খবরের সঙ্গে থাকবে কান্নায় ভেঙে পড়া কোনও মহিলার ছবি। তিনি স্ত্রী, মা বা বোন। পুরুষ আত্মীয় যখন সাংবাদিককে সাক্ষাৎকার দিচ্ছে তখন মহিলারা শোকে আত্মহারা। কান্নায় বাকরুদ্ধ। এইভাবেই সংবাদমাধ্যমগুলি কান্নায় ভেঙ্গে পড়া মহিলাদের ছবি ভাঙিয়ে ব্যবসার পাশাপাশি শোকের অভিব্যক্তির এই লিঙ্গভিত্তিক ছাঁচকে আরো জোরদার করে। প্রত্যাশিত অভিব্যক্তির ব্যতিক্রম ঘটলেই নিন্দার ঝড় বয়ে যায়।

এবার বিনোদন দুনিয়ার দিকে দৃষ্টি ফেরাই। কোনও মহিলা তারকা মারা গেলে তার স্বামী কাঁদছে কিনা কেউ খোঁজ করে না। না কাঁদলে নিন্দামন্দ করে না। কিন্তু স্বামীর মৃত্যু ঘটলে সদ্য বিধবা স্ত্রী কাঁদবে, এটাই প্রত্যাশিত, এটাকেই মনে করা হয় স্বাভাবিক, তা তিনি যত বড় তারকাই হোন না কেন। খুব সম্প্রতি ৪৩ বছর বয়সী দুর্দান্ত প্রতিভাসম্পন্ন অভিনেতার অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘটার পর যখন তাঁর শবদেহ পরিবারের কাছে আনা হয় তখন দেখা যায়, অভিনেতার স্ত্রী, যিনি নিজেও প্রতিষ্ঠিত অভিনেত্রী, কাঁদছেন না। উপরন্তু একটা ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে, তিনি গাড়ির মধ্যে সামনের সিটে বসে চুল সরাচ্ছেন। আরেকটা ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে, একজন প্রবীণ অভিনেতার কোনও একটি সম্ভাষণের উত্তরে তাঁর মুখে হালকা হাসি। সেটা সৌজন্যমূলক হতে পারে। কিন্তু নেটদুনিয়ার বাসিন্দারা ছাড়বে কেন! সদ্য বিধবা স্ত্রীর চোখে জল নেই, যখন তাঁর আছড়ে বিছড়ে শোকে উচ্চস্বরে কাঁদা উচিৎ, তখন তিনি কখনও তাঁর চুল নিয়ে ব্যস্ত, কখনও তাঁর ঠোঁটে হাসি। তারা ঝাঁপিয়ে পড়েছে অভিনেত্রীর ওপর এবং কুৎসিৎ কদর্য সব পোস্ট দিয়ে প্রমাণ করতে চাইছে যে অভিনেত্রী নির্মম, নিষ্ঠুর, অভিনেতার যোগ্য স্ত্রী নয়। ইঙ্গিত দিয়েছে অভিনেতার মৃত্যুতে তিনি খুশি হয়েছেন, মুক্তি পেয়েছেন অথবা তাঁর কিচ্ছু এসে যায় না। অথচ প্রায় সব দেশেরই তারকাদের মতো আমাদের দেশের তারকাদেরও জীবনও খোলা পাতা। ব্যক্তিগত বলতে কিছু নেই। সবাই জানে, এই জুটি তাঁদের প্রথম ছবি করার সময় পরস্পরের প্রেমে পড়েন (অথবা তার আগে থেকেই কিনা আমি জানিনা)। এবং ছবিটা মুক্তি পাওয়ার পর হয় দুর্দান্ত হিট। নায়িকা তখন ক্লাস টুয়েলভে পড়েন। বাড়িতে না মেনে নিলে নায়িকা ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন এবং তাঁরা বিয়ে করেন। অভিনেতা একটা সাক্ষাৎকারে বলেছেন, পুজোর মণ্ডপে তাঁদের ছবির সুপারহিট গান বাজছে অথচ তাঁদের থাকার জায়গা নেই। কারণ তাঁরা পরিবারের অসম্মতিতে বিয়ে করে নিয়েছেন। বিয়ের কয়েক বছর পর তাঁদের সন্তান হয়। কিন্তু দাম্পত্যজীবন সুখী হয়েছিল কি? কয়েক বছর পরেই শোনা যায় তাঁদের মধ্যে ডিভোর্সের মামলা চলছে। গুজব ছড়ায় যে অভিনেতা  আরেকজন অভিনেত্রীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছেন। তারপর অভিনেতার প্রত্যাগমনের কথা, তাঁর মাদকাশক্তির কথাও সংবাদমাধ্যমের বিনোদনের পাতায় খবর হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় জোরদার চর্চা হয়েছে। কয়েক বছর পর শোনা গেল, ডিভোর্সের মামলা তুলে নিয়ে ছেলের জন্য তাঁরা আবার একসঙ্গে পথ চলতে শুরু করেছেন। অভিনেতা নিজে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ছেলেকে ছেড়ে চলে আসার পর তিনি ক্লিনিক্যাল ডিপ্রেশনে তলিয়ে গেছিলেন। সম্ভবত সেই সময় থেকেই তাঁর মাদকাশক্তি। তারকাদের ব্যক্তিগতজীবন নিয়ে যারা দিনরাত গবেষণায়রত তারা এই দম্পতির ওঠানামার গল্পের খুঁটিনাটি আরো ভালোভাবে বলতে পারেবে। তবে মোটের ওপর কথা হল এই যে, বিয়ের পর থেকে অভিনেত্রী আদপেই স্থিতি বা শান্তি পাননি। ক্রমাগত ঝড়ঝাপটা। এর মধ্যে ছেলেকে বড় করে তোলা। তার শারীরিক মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে নজর রাখা। লড়াই করে করে হয়তো তিনি ক্লান্ত। অথবা বুঝতে পেরেছেন সামনে তাঁর আরো কঠিন লড়াই। ছেলেকে একা হাতে বড় করে তুলতে হবে। অভিনেতার অস্বাভাবিক মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধান করতে হবে। সেই লড়াই করতে হবে দাঁতে দাঁত চেপে। ক্লান্ত হয়ে পড়লে চলবে না। তাই তিনি হয়তো কান্নায় ভেঙ্গে পড়েননি। অথবা আড়ালে কেঁদেছেন। অথবা হতেই পারে, তাঁর চোখে এক ফোঁটাও জল আসেনি। আঘাত পেতে পেতে তিনি শক্ত হয়ে উঠেছেন।

সদ্য সঙ্গীহারা অভিনেত্রী প্রকাশ্যে না কেঁদে অনেকের বিরাগভাজন হয়েছেন। তিনি নারীর আবেগ সম্বন্ধে পিতৃতান্ত্রিক প্রত্যাশাকে পূরণ করেননি বলে সমাজের এক অংশ তাঁর ওপর হাড়ে হাড়ে চটেছে। পিতৃতন্ত্র কীভাবে মেয়েদের আবেগ-অনুভূতিকে নিয়ন্ত্রণ করে, স্বতঃস্ফূর্ততা থেকে বিযুক্ত করে অনুশাসনের ঘেরাটোপে বেঁধে ফেলতে চায় তার প্রমাণ সোশ্যাল মিডিয়ায় সাম্প্রতিককালের এই নেতিবাচক চর্চা।

লেখক: অধ্যাপক, গবেষক, প্রাবন্ধিক, ছোটগল্পকার

ছবি: সংগৃহীত

0 Comments

Post Comment